দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ বৈঠকে ইরান যুদ্ধই প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর এই প্রথম ট্রাম্পের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছেন নেতানিয়াহু। এমন এক সময়ে এই সফর হচ্ছে, যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযান ও গ্রেপ্তার বেড়েছে এবং ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনও তিন মাস দূরে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বৈঠকে ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইসরায়েল-আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে নেওয়া আব্রাহাম চুক্তি নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
আল জাজিরার ওয়াশিংটন প্রতিনিধি অ্যালান ফিশার জানিয়েছেন, ইসরায়েলের একটি অংশ চায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় না গিয়ে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করুক। তবে ট্রাম্প কয়েক দফা প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, নেতানিয়াহু বৃহত্তর কূটনৈতিক চিত্র বিবেচনা করছেন না এবং ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
সম্প্রতি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে ট্রাম্প বলেন, ‘সব সিদ্ধান্ত আমিই নিই। তিনি সিদ্ধান্ত নেন না।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ইরান যুদ্ধের জনসমর্থন কমে যাওয়ায় ট্রাম্প যুদ্ধের অবসান চেয়ে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী। অন্যদিকে, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে তা নেতানিয়াহুর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।
বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে ইরানে ‘শাসন পরিবর্তন’ প্রশ্ন। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক অ্যালেক্স ভাতাঙ্কার মতে, নেতানিয়াহু আবারও ট্রাম্পকে তেহরানে শাসন পরিবর্তনের ধারণা সমর্থনের আহ্বান জানাতে পারেন। তবে ট্রাম্প এ বিষয়ে আগ্রহী নন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
লেবানন থেকেও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন লেবানন, সিরিয়া ও গাজা থেকে ইসরায়েলকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে নেতানিয়াহু এ ধরনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন।
এ ছাড়া তুরস্কের কাছে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির পরিকল্পনাও দুই নেতার মধ্যে আরেকটি মতবিরোধের বিষয়। নেতানিয়াহুর দাবি, তুরস্ককে এ ধরনের যুদ্ধবিমান দেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্য নষ্ট হবে।
সফরের আগে এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘এই জটিল সময়ে দৃঢ়তা ও প্রজ্ঞা—দুটিই প্রয়োজন। আমরা আলোচ্য সব বিষয় নিয়ে কথা বলব, যার মধ্যে প্রধান বিষয় হবে ইরান। আমাদের লক্ষ্য দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তির পরিধি আরও বিস্তৃত করা।’
এদিকে ইসরায়েলের প্রায় ৬০০ সাবেক সামরিক, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা ট্রাম্পের কাছে এক খোলা চিঠিতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ঠেকাতে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু আসন্ন ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে নিজের পুনর্নির্বাচন প্রচারণার জন্যও ট্রাম্পের সমর্থন চাইতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউসে এই বৈঠক নেতানিয়াহুর জন্য কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: আল-জাজিরা
/অ